অধ্যবসায় রচনা
রচনা

অধ্যবসায় রচনা সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী

Spread the love

                                অধ্যবসায়

রচনার পয়েন্ট সমূহঃ

  • ভূমিকা
  • অধ্যবসায় কি
  • অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা
  • ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়
  • অধ্যবসায় ও প্রতিভা
  • অধ্যবসায়ীর দৃষ্টান্ত
  • মানবসভ্যতায় অধ্যবসায়
  • অধ্যবসায়হীন মানুষের অবস্থা
  • অধ্যবসায়ের মূল্য
  • উপসংহার

ভূমিকা

জীবন আপনা-আপনি বিকশিত হয় না। জীবনের একদিকে যেমন সফলতা আছে তেমনি অন্যদিকে আছে বিফলতা। সফলতা অর্জনের জন্য বিফলতাকেও বরণ করে নিতে হয়। এর জন্য চাই সাধনা,নিষ্টা, এবং একাগ্রতা। কারণ ধৈর্য সহকারে কঠোর সাধনার নামই অধ্যবসায়। মূলত অধ্যবসায় হলো সাধনার ব্যবহারিক নাম। পৃথিবীতে যা কিছু মহৎ, যা কিছু, সুন্দর, যা কিছু কল্যাণকর-তার সবই অধ্যবসায়ের ফলেই অর্জিত হয়েছে।

অধ্যবসায় কি

অধ্যবসায় হলো মানুষের নীরব সান্তনা। মূলত বর্তমানে কোন কাজে সফলতা পাওয়ার জন্য মানুষের বিরামহীন চেস্টা,পরিশ্রম এবং সাধনাই অধ্যবসায়। এর মাধ্যমে মানুষ তার জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে সাজাতে পারে।

অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তাজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।মানবজীবনের সামনে বহু বাধা-বিপত্তি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।সে সমস্ত বাধা বিপত্তিকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে চলাই জীবনের ধর্ম। আর এটি বাস্তবায়িত হয় অধ্যবসায়ের মাধ্যমে। মনে রাখতে হবে, অন্ধকারের পরে আলো, দুঃখের পরে সুখ যেমন পর্যায়ক্রমে আসে ঠিক তেমনি অধ্যবসায় ব্যর্থতার সকল গ্লানি দূর করে মানুষের ভাগ্যকাশে সফলতার শুকতারার আগমন ঘটায়। ব্যর্থতার জীবনে আসবেই, কিন্তু তাই বলে হাত-পা গুটিতে বসে থাকলে চলবে না। একটি কাজ একবার না পারলে বারবার চেষ্টা করতে হবে। দেখা যাবে যা অসাধ্য ছিল তা সম্ভব হয়ে গেসে। তাই ব্যর্থতাকে সাফল্যের প্রথম সোপন হিসেবে নিয়ে অধ্যবসায়ী হওয়া প্রয়োজন। কেননা আত্নপ্রতিষ্ঠার সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হচ্ছে অধ্যবসায়। তাই অধ্যবসায়ী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলবদ্ধি করে কবি বলেছেন-

                                           “ধৈর্য ধরো, ধৈর্য ধরো ! বাঁধো বাঁধো বুক

                                             শত দিকে, শত দুঃখ আসুক,আসুক” 

ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়

ছাত্রজীবনে অধ্যবসায় ছাত্রজীবনের সাথে অধ্যবসায় শব্দটি খুবই সম্পৃক্ত। ছাত্রজীবনই হচ্ছে জীবনকে সুন্দর ও মধুময় অরে গড়ে তোলার উপযুক্ত সময়। ছাত্রজীবনে যে অলস হয় সে জীবনে উন্নতি করতে পারে না। কেননা বিদ্যালাভের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। পরীক্ষায় খারাপ করে বসে না থেকে ভালভাবে পুনরায় মনোযোগ সহকারে অধ্য়য়ন করলে পরীক্ষায় সফলতা আসবেই।ছাত্রদের একথাটি সবসময় মনে রাখতে হবে যে, Failure is the Pillar of Success অর্থাৎ ব্যর্থতাই হচ্ছে সফলতা লাভের সিঁড়ি।স্বল্প মেধা সম্পন্ন ছাত্ররাও কঠোর সাধনার ফলে ভাল ফলাফল করতে পারে। আবার মেধাসম্পন্ন অলস ছাত্রের জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তাই ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের গুরুত্ব অপরসীম।

অধ্যবসায় ও প্রতিভা

প্রবাদ আছে, Rome was not built a day. সুতারাং অবিশ্রান্ত পরিশ্রম করার প্রতিবৃত্তিকেই প্রতিভা বলে। অধ্যবসায় না থাকলে কেবল প্রতিভা দ্বারা কিছুই হয় না। অধ্যবসায় ও প্রতিভার সমন্বয়েই মানুষ বড় কিছু করতে পারে। এ পৃথিবীতে অনেক বিখ্যাত  সব লোক জন্মেছেন,যারা প্রতিভাবন অপেক্ষা অধ্যবসায়ী ছিলেন বেশি। প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিক স্যার আইজাক নিউটন বলেছেন “প্রতিভা বলে কিছুই নেই,সাধনা এবং পরিশ্রম করে যাও, তাহলে দেখবে প্রতিভা বা মেধাকে আয়ত্ত করতে পারবে।” প্রকৃতপক্ষে প্রতিভা অকরের মধ্যস্থিত মণির মতো।

অধ্যবসায়

অধ্যবসায়ীর দৃষ্টান্ত

অধ্যবসায়ীর দৃষ্টান্তইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় যে, সব সাফল্যের নিয়ামক হচ্ছে অধ্যবসায়। স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুস ইংরেজদের সাথে পর পর ছ’বার যুদ্ধ করে তিনি হেরে যান। পালায়ণরত অবস্থায় তিনি এক গুহায় শুয়ে চিন্তায় নিমগ্ন ছিলেন। সাহসা তিনি দেখতে পেলেন, একটা মাকড়সা বার বার একটি স্তম্ভের গায়ে ওঠার চেষ্টা করছে, কিন্তু খানিকটা উঠেই পড়ে যাচ্ছে। এভাবে মাকড়াসাটি ছ’বার ব্যর্থ হয়ে সপ্তমবারে স্তম্ভগায়ে উঠতে সক্ষম হয়। এই ঘটনা দেখে তিনি আগ্রহ ফিরে পান। তিনি অদম্য উৎসাহে শক্ররাজ্য সপ্তম্বারের মত আক্রমন করে স্বদেশ উদ্ধার করেন। ফরাসীর জগতবিখ্যাত নেপোলিয়ান একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহন করেও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ফরাসি জাতির ভাগ্যবিধাতার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। অধ্যবসায়ের দ্বারা কলম্বাস আবিষ্কার করেছিলেন আমেরিকা। সুতারাং এসব দৃষ্টান্ত থেকে বলা যায়, অধ্যবসায় সকল আসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে পারে।

মানবসভ্যতায় অধ্যবসায়

আজকের সভ্য জগত আমাদের পূর্বপুরুষদের অধ্যবসায়েরই ফল। এ পৃথিবী একদিন ছিল মানুষের বসবাসের অনুপযোগী।মানুষ ছিল বনচর জন্তুর মতো। তখন তাদের ভাষা,পরিবার,সমাজ,রাষ্ট্র, নির্মাণকৌশল ইত্যাদি কোন কিছুই ছিল না।গুহাবাসী মানব অনন্ত সাধনা ও অধ্যবসায়ের গুণে আজ সভ্যতার চরম শিখরে আরোহন করেছে।

অধ্যবসায়হীন মানুষের অবস্থা

অধ্যবসায়হীন ব্যাক্তি জীবনে কখনও কোন কাজে সফলতা লাভ করতে পারে না।চলার পথে কোন সমস্যা বা বাধা-বিপত্তি দেখা দিলে তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পথচলা বন্ধ করে দেয় এবং ভাগ্যকে দোষারোপ করে। এরা আলোকিত পরিবেশেও অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনযাপন করে এবং সবসময় হতাশার মধ্যে থাকে। সুখ-সমৃদ্ধির পরিবর্তে এওরা দুঃখের কালো সমুদ্রে নিপতিত হয়।

অধ্যবসায়

অধ্যবসায়ের মূল্য

আমাদের জীবনে অধ্যবসায়ের মূল্য অপরসীম।ভারতীয় দর্শন মতে, যদিও আমরা দুঃখবাদী এবং দুঃখে আমাদের জীবন গড়া,তথাপি আমাদের মধ্যে অনেকেই দুঃখ-দৈন্যের সাথে লড়ে। মানুষ অধ্যবসায়ী না হলে বিশ্বের এতো উন্নতি আদৌ সম্ভব হতো না।

উপসংহার

অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জীবনকে সুন্দর,সুফল ও গৌরবান্বিত করে তোলা সম্ভব।অধ্যবসায়ের অনুশীনল ছাড়া কোন জাতি সঠিক সফলতা লাভ করতে পারে না। অধ্যবসায়কে মানবজীবনের সঙ্গী করা প্রয়োজন। কারণ অধ্যবসায় ব্যতীত শুধুয়াত্র প্রতিভাবলে কিছুই লাভ করা যায় না। যারা পরিশ্রমী,ধৈর্যশীল আল্লাহ তাদেরকেই সাহায্য করেন। তাই বলা যায়-“Industry is the mother of good luck” অর্থাৎ পরিশ্রমই সৌভাগ্যের চাবিকাঠি।

 

আমাদের প্রকাশিত আরও রচনাসমূহ

 

4 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *