শ্রমের মর্যাদা রচনা
রচনা

শ্রমের মর্যাদা রচনা সকল শ্রেণীর জন্য

Spread the love

রচনার পয়েন্ট সমূহঃ

  • ভূমিকা
  • পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি
  • শ্রম সম্পর্কের আমাদের দেশের ধারণা
  • পৃথিবীর উন্নত দেশসমূহে শ্রমের ধারণা
  • শ্রমের আবশ্যকতা
  • মানসিক উন্নতি শ্রম
  • পৃথিবীর মধ্যে শ্রমশীল ব্যক্তির উদাহরণ
  • উপসংহার

ভূমিকা

পৃথিবীতে সকল কর্মই শ্রমসাপেক্ষ। কথায় বলে- “শ্রম ব্যতীত শ্রী হয় না।” পরিশ্রম না করে যদি কেউ ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকে,অলীক স্বপ্নে বিভোর থাকে, তাহলে তার জীবনে সুখ সাফল্য কোনোটিই আসে না। শ্রমই জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভের সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা।

পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি

মানবজীবন মানেই কর্মময় জীবন, এখানে শ্রম ছাড়া টিকে থাকা কষ্টকর। ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত,জাতীয় সকল উন্নতির মূলে রয়েছে শ্রম। যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী, সে জাতি তত বেশি উন্নত। জ্ঞানীর জ্ঞান, সাধকের সিদ্ধি, ধনীর ধন, বিজ্ঞানীর আবিষ্কার, চাষীর শস্য সবই শ্রমের প্রতিদান।

শ্রমের মর্যাদা রচনাশ্রম সম্পর্কের আমাদের দেশের ধারণা

শ্রম সম্পর্কে আমাদের দেশের অনেকের ধারণা নিজে কাজ করলে অত্মসম্মানের হানি ঘটে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে আমরা তাকালে দেখতে পাই যে, কায়িক শ্রমের দ্বারা তারা উন্নতির স্বর্গ শিখরে আরোহন করেছে। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে এ শ্রমবিমুখতা আত্মহত্যারই নামান্তর। আমাদের দেশের মধ্যে এ ভ্রান্ত ধারণা যে কত ক্ষতিকর তা বলে শেষ করা যাবে না। কায়িক শ্রম সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভের প্রধান উপয়ায় বরং এটা মোটেই আত্নসম্মানের পরিপন্থী নয়। আমাদের দেশের লোকেরা লেখাপড়া করে চাকরির প্রত্যাশায়। তারা কায়িক শ্রমকে ছোট বা হীন ভেবে অনেকেই এটা করতে রাজি হয় না। আমাদের দেশের লোকের ধারনা ক্ষেতের চাষী কল-কারখানার শ্রমিক, কুলি, মজুর সকলেই তারা ছোট লোক। অথচ দেশ ও জাতি গঠনের মহান দায়-দায়িত্ব তারা পালন করে থাকে।

পৃথিবীর উন্নত দেশসমূহে শ্রমের ধারণা

বিশ্বের যে কোন উন্নত দেশের প্রতি তাকালে দেখা যায় যে, তারা শ্রমের প্রতি বেশ মর্যাদাশীল। শ্রমকে তারা শ্রমই মনে করে, কোন মর্যাদা হানিকর কিছু মনে করে না। তাদের কাছে বড় ছোট বলতে কোন পার্থক্য নেই। শ্রমের প্রতি তাদের বেশ আগ্রহ থাকে। শ্রমের কারনে তারা আজ উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছতে পেরেছে। জাপান, জার্মানি, আমেরিকা, রাশিয়া, চীন ইত্যাদি দেশ শ্রমের বলেই আজ পৃথিবীর মধ্যে তাদের স্থান প্রতিষ্ঠিত। পৃথিবীর মধ্যে যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী, সে জাতি তত বেশি উন্নত। তারা কাজকেই কাজই মনে করে। অথচ আমাদের দেশে তার উল্টো।

শ্রমের আবশ্যকতা

আমাদের পবিত্র আল কুরআনে শ্রমের আবশ্যকতা সম্পর্কে বলা হয়েছে “মানুষের শ্রম ব্যতীত কিছুই নেই। প্রত্যেক মানুষের ব্যাক্তিগত ও জাতীয় জীবনে শ্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। যারা অলস ও শ্রম বিমুখ তারা কোনদিন শান্তি ও আনন্দ লাভ করতে পারে না। শ্রমহীন জীবন বোঝা সরূপ। মানুষ শ্রম ব্যাতিত কোন কিছুই অর্জন করতে পারে না। ইহকালে বেঁচে থাকার জন্য যেমন শ্রমের প্রয়োজন তেমনি পরকালে পরকালেও শ্রমের প্রয়োজন সাপেক্ষ।ছাত্র জীবনের ক্ষেত্রেও শ্রমের আবশ্যকতা অত্যন্ত বেশি। শ্রমহীন ও শ্রমবিমুখ ছাত্র যতই মেধাবী হোক না কেন সে জীবনে কোন উন্নতি লাভ করতে পারবে না। পৃথিবীতে যে সমস্ত লোক অতিস্মরণীয় হয়েছে তাদের মূলে রয়েছে শ্রম। শ্রমের বলেই মানুষ জগতের শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে এবং প্রাকৃতিক শক্তিগুলোর উপর নিজের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

মানসিক উন্নতি শ্রম

মানসিক বলতে বোঝায় মনকে। এ মানসিক উন্নতিও শ্রম ছাড়া হয় না। প্রবাদে আছে “অকর্মণ্য মস্তিস্ক শয়তানের কারখানা।” যে কোন ব্যাক্তি শ্রমবিমুখ তার মনে কখনও সুচিন্তা ও সদভাব উদয় হয় না। বরং নানা কুচিন্তা আশ্রয়স্থল হল তার মন। তাই পরিশ্রমী ব্যক্তির মন ও মস্তিষ্ক কু-ক্রিয়া হতে সর্বদা মুক্ত থাকে। যেকোন বিষয়, যেমন- গণিত, সাহিত্য,ইংরেজি, দর্শন প্রভৃতি গ্রন্থ পরিশ্রম করে পাঠ করলে ও আলোচনা করলে মানসিক উন্নতি সাধিত হয়।

পৃথিবীর মধ্যে শ্রমশীল ব্যক্তির উদাহরণ

পৃথিবীর মধ্যে যে কোন বিখ্যাত ব্যাক্তি ও মনীষীদের জীবনী আলোচনা করলে দেখা যায় তারা সকলেই পরিশ্রমী ছিলেন। কাজী নজরুল ইসলাম, এ. কে.এম.  ফজলুল হক, ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, বিজ্ঞানী আইন্সটাইন, গ্যালিলিও এর জ্বলন্ত প্রমাণ। এদিকে ইসলামে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কঠোর পরিশ্রম করে পৃথিবীর বুকে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি নিজ হাতে সকল কাজ সমাধান করতেন। আবার জিহাদের ক্ষেত্রেও তিনি একজন সৈনিক হিসেবে কাজ করতেন। আবার মাটি কাটার কাজেও সাধারণ শ্রমিকের মত কাজ করতেন। তাতে তিনি কোন লজ্জা বোধ করেননি। আরও তিনি বলতেন নিজ হাতে নিজের কাজ করার মত পবিত্র আর কিছুই নেই।

উপসংহার

শ্রম ব্যতীত কোন মানুষই পারে না সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে আরোহন করতে। একমাত্র শ্রমশক্তিই পারে মানুষকে সাফল্যের শিখরে আরোহন করাতে। আমাদের মঙ্গল নিহিত হয় শ্রম শক্তির দ্বারা। শ্রম সম্পর্কে সকল ভ্রান্ত ধারণা আমাদিগকে পরিহার করে ,কন শ্রমকে মর্যাদার হানিকর মনে না করে পরিশ্রমী হতে হবে। পরিশ্রম ব্যাতীত উন্নতির কোন কল্পনা করা সম্ভব নয়। আমাদের সবার উচিত জাতীয় ও ব্যক্তিগত জীবনে শ্রমের মর্যাদা দান করা। শ্রমকে একমাত্র উন্নতির চাবিকাঠি ভাবতে হবে, তাহলে আমাদের উন্নতি অনিবার্য।

 

আমাদের প্রকাশিত আরও রচনাসমূহ-

 

 

 

 

 

 

 

 

 

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *